অনলাইন ডেস্ক-
আ্যটোর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ২৩৩ নং
মাধবী সিরিয়ালে এক আবেগঘন স্টেটাসে জানান, “মন ভালো নেই, কোন কিছু ভালো লাগছেনা, এখন আমার সবচে’ ভালো থাকার কথা, আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে শৈলকুপার মানুষের মাঝে যাওয়ার যে আনন্দ-উচ্ছাস থাকার কথা তা পাচ্ছি না! মনোনয়য়ন নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে উচ্ছ্বসিত হওয়ার যে রেওয়াজ তা উদযাপন করিনি, চারিদিকে শুধু অশান্তির বাতাস, বাতাসে শরীফ ওসমান হাদীর জন্য বাংলার মানুষের হাহাকার শুনছি, বাতাসে লাশের গন্ধ পাচ্ছি! মাথায় সাত পাঁচ চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে।
হাদীর মৃত্যু নিয়ে তিনি লিখেছেন,
সব চিন্তাকে ছাপিয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর হাদীর জানাযায় স্মরণকালের সবচে’ বেশী মানুষের উপস্থিতি আমাকে শোক থেকে শক্তি যুগিয়েছে! মনে হয়েছে এমন জনম স্বার্থক, মনে হয়েছে এমন মৃত্যু তারও অধিক স্বার্থকতাময়, এমন মৃত্যু ঐশ্বরিক, এমন ভাগ্য বিধাতার আপন মহিমায় উদ্ভাসিত ।
হাদীর সাথে দেখা হওয়া বিষয়ে তিনি লিখেছেন,
হাদীর সাথে আমার দু’বার দেখা হয়েছিলো, স্বল্প কথা, একে অন্যতে ভালোলাগার আলাপে মত বিনিময় হয়েছিলো। আমি হাদীর বিদ্রোহী কবিতা আবৃতির ভক্ত ছিলাম বলে জানানোর পর ও বলেছিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমি অলিভার ক্রমওয়েলের বিচার নিয়ে যে কথা বলেছিলাম তাতে সে ভীষন খুশী হয়েছিলো। হাদীর চিন্তার পরিধি ছিলো স্বচ্ছ, প্রকাশভঙ্গি ছিলো তীরন্দাজের মতো লক্ষ্যভেদী, চেতনা ছিলো সব্যসাচী, হৃদয় ছিলো গোলাপের পাঁপড়ির মতো সুন্দর, বিশুদ্ধ আর সুবাসিত! হাদীর দেশপ্রেম, হাদীর জাতীয়তাবোধ, মানবিক মূল্যবোধ আর ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গাটা আমাকে মুগ্ধ করেছিলো। হাদী আমার রক্তের সম্পর্কের কেউ না হলেও-ও আমার ভাই হয়ে উঠেছিল! হাদী শহীদ হয়েছে, তাঁকে সমাহিত করা হয়েছে, অনেকেই এটাকে হাদীর শেষ বিদায় বলছে, কিন্ত আমি বলছি হাদীরা মরে না, হাদীরা বিদায় নেয় না, হাদীরা আমাদের জীবনে, আমাদের চিন্তায়, আমাদের চেতনায় আজীবন রয়ে যায়, রয়ে যাবে! আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, হাদী, ভাই আমার, ঘুমাও শান্তিতে, আমরা জেগে রবো আইনী প্রক্রিয়ায় তোমার হত্যার বদলা নিতে! আমরা এখন দৃঢ়ভাবে বলতে পারবো, হ্যাঁ, বলতেই পারবো যে, এক হাদী লোকান্তরে, লক্ষ হাদী ঘরে ঘরে!
